রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচারের বিষয়টি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আদেশ দেন। এ ছাড়া জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামির জামিন বাতিল করেছেন বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক জানিয়েছেন, আদালত এই মামলার আসামি কামরুল হাসান ওরফে সাইমুনকে স্নাতক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার চার মাস পর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করা হলো।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী আদালতে দেওয়া তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। আদালতে জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে। এই মামলায় রিফাতের ছোট ভাইও আসামি। আদালত সূত্র জানায়, ৩১ অক্টোবর ১৪ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিচার কার্যক্রম শুরুর জন্য মামলার মূল নথি বরগুনার শিশু আদালতে পাঠানো হয়।গত ১ সেপ্টেম্বর এই মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৪ আসামি নিয়ে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। আসামিদের মধ্যে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাও আছেন।

আজ জামিন বাতিল হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, গত ৩১ অক্টোবর রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের অভিযোগপত্র বিচারের জন্য প্রস্তুত করে বরগুনার শিশু আদালতে পাঠান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আজ এই মামলার ধার্য তারিখে জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক এই আসামি আদালতে হাজির হয়। এরপর আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান তার জামিন বাতিল করে তাকে যশোর শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় আজ বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলার জামিনে থাকা আসামি আয়শা সিদ্দিকাও আদালতে হাজির হন।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে তাঁর স্ত্রী আয়শার সামনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। ওই দিন বিকেলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ২৭ জুন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।