নোটিশ, লিগ্যাল নোটিশ ও সমন এর যে কোন একটা যদি কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে চলে আসে তবে সেই ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিচলিত হয়ে যান। বিচলিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ প্রতিটাই আইনগত বিষয়।

আইনতো কাব্য বা সাহিত্য না যে সবাই এর মর্ম বুঝবে, এটা একটা নিরস সাবজেক্ট তাই যতদুর সম্ভব এড়িয়ে চলাই উত্তম। আইনগত বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দিন, তা না হলে মারাত্মক আইনি জটিলতায় ভূগতে পারেন। এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই নোটিশ , লিগ্যাল নোটিশ, ও সমন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা থাকা জরুরী।

নোটিশঃ


কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠাকে সাধারনত কোন বিষয় সম্পর্কে অবগত, সচেতন বা অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়াকেই নোটিশ বলে।

যেমন:

(১) কোন কোম্পানীতে সকল চাকুরীজীবীদের সকাল ৮ টায় উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত ইউনিফরম পরিধান করে অফিসে প্রবেশ করতে হবে বলে তা নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হল।

(২) কোন শ্রমিককে পেশাগত অসদাচরণহেতু কারণ দর্শানের জন্য বলা হলো,

(৩) আবার উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা নিষেধ বলে একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হল এগুলোর সবই নোটিশ।

লিগ্যাল নোটিশঃ

কোন ব্যাক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যাক্তিকে যদি মৌখিক, আর্থিক অথবা অন্য কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে মামলা করার পূর্বে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনজীবী মারফত যে নোটিশ প্রেরণ করা হয় তাই লিগ্যাল নোটিশ নামে পরিচিত। যেমনঃ পাওনাদার কর্তৃক দেনাদারের নিকট পাওনা টাকা চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ প্রেরণ, আবার স্ত্রী ভরণ-পোষণের দাবি করে স্বামীর বরাবর নোটিশ ইত্যাদি।

সমনঃ

বাদী এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতে যথাযথ উপায়ে মোকদ্দমা দায়ের করার পর বিচারক অথবা তৎকর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত আদালতের সীলমোহরে মোহরাঙ্কিত করিয়া নির্ধারিত তারিখে বিবাদীকে উপস্থিত হয়ে বাদীর দাবির উত্তর প্রদানের জন্য আদালত যে নির্দেশ প্রদান করে তাই সমন বলে অভিহিত করা হয়। যেমন: স্বত্ব ঘোষনা, দখল পুনরুত্থান, ঘোষনামূলক, নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি মোকদ্দমায় অবশ্যই আদালত বিবাদীর প্রতি সমন দিবেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় নোটিশ, লিগ্যাল নোটিশ এবং সমন সবই আইনগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় আইনে এই বিষয়গুলোকে বাধ্যবাধকতা করে দেয়। যেমনঃ চেকের মামলায় নোটিশ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। নোটিশ ব্যতীত কোন শ্রমিককে ছাটাই বা বরখাস্ত করা যাবে না। আবার সমন জারি ব্যতীত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আদালত অগ্রসর হইবে না।

নোটিশ, লিগ্যাল নোটিশ ও সমন-এর যে কোন একটি যদি আপনার নিকট আসে তাহলে করণীয়ঃ

১. অনেকে ভয়ে অথবা অতি চালাকি করে গ্রহণ না করেই বিভিন্ন অজুহাতে ফেরৎ প্রদান করেন যা মোটেই ঠিক না। কারণ আপনি বুঝতেই পারলেন না কেন আপনার বিরুদ্ধে তা পাঠানো হলো। সবসময় এগুলো গ্রহীতার বিপক্ষে থাকবে এমন ধারনাও ঠিক না। আর আমি নোটিশ কিংবা সমন পাই নাই এ কথাগুলো বলারও অনেক সময় অবকাশ থাকে না। কারণ আপনি গ্রহণ না করতে চাইলে জারিকারক বিকল্প পদ্ধতিতে জারি করবে, তখন হয়তো বাদী মোকদ্দমাটি একতরফা রায় নিয়ে যাবে।

২. ভয় না পেয়ে আপনি নিজেকে স্থির রাখুন এবং রিসিভ করে ভালভাবে বারবার পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. বুঝতে অসুবিধা হলে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিন।

৪. লিগ্যাল নোটিশ পেলে আপনি আপনার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে উত্তর দিন। অযৌক্ততিক কোন দাবি থাকলে তা কঠোরভাবে বিরোধিতা করুন, আর যদি আপনার কোন দুর্বলতা থাকে তাহলে নোটিশ দাতার সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করুন। সমন পেলে সময় মত আদালতে লিখিত বক্তব্য তৈরী করে তা বাদীর বিপক্ষে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন।

৫. যদি কোন সরকারী/বেসরকারী বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রকার নোটিশ প্রদান করে তাহলে আপনি দ্রুত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে শুধু একটি কথাই বলবো, আর তা হচ্ছে আইনগত বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দিন। অন্যথায় অনেক ছোট বিষয় যা শুরুতেই সমাধান করা যেত কিন্তু অবহেলার কারনে অনেক সময় পাহাড়সম সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন এবং সুন্দর জীবন গড়ে তুলুন।


মো:- খোরশেদ আলম সোহেল মিয়া
আয়কর আইনজীবী