রাজধানীর ধানমন্ডির জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে আসা সুরভী আক্তার। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আজ বৃহস্পতিবার জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুরভীকে আদালতে হাজির করে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করে। আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশ জানায়, ধানমন্ডির জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চান সুরভী। পুলিশ ও আদালত সূত্র বলছে, সুরভী আক্তার আদালতকে বলেছেন, তিনি নিজে ছুরি দিয়ে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতিকে খুন করে পালিয়ে যান। প্রথম খুন করেন দিতিকে, এরপর আফরোজা বেগমকে।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডির জোড়া খুনের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি সুরভী আক্তার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা বলে সুরভী আক্তারকে ধানমন্ডির বাসায় আসতে বলেন আসামি আমিনুল হক (নিহত আফরোজার জামাতার দেহরক্ষী)। তাঁর কথামতো সুরভী সেদিন (১ নভেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডির ওই ফ্ল্যাটে আসেন। গৃহকর্মী দিতি তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। এরপর বাসার প্রধান গেটে তালা দিয়ে চাবি দিয়ে আসে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমের কাছে। তখন সুরভীর মনে সন্দেহ হয়, তিনি বোধ হয় ওই বাসায় আটকা পড়েছেন এবং কোনো বিপদের সম্মুখীন হবেন। তাই সুরভী নিজে প্রথমে দিতিকে ছুরি দিয়ে খুন করে। এরপর গৃহকর্ত্রী আফরোজাকে খুন করে বাসা থেকে চলে যায়।
গত ৫ নভেম্বর সুরভীসহ গ্রেপ্তার পাঁচজন আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি নিয়ে আদালত সেদিন তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
অপর চার আসামি বাড়ির ব্যবস্থাপক গাউসুল আজম, ইলেকট্রিশিয়ান বেলায়েত, নিরাপত্তারক্ষী নুরুজ্জামান এবং দেহরক্ষী আমিনুল হক।
১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও তাঁর গৃহকর্মী দিতির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আফরোজা বেগমের মেয়ে আইনজীবী দিলরুবা সুলতানা বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।