সড়ক পরিবহন আইন,২০১৮ কার্যকর করা হয়েছে গত ১লা নভেম্বর হতে। রয়েছে এই আইনের পক্ষে ব্যাপক আলোচনা, রয়েছে এর বিপরীতে ব্যাপক সমালোচনাও।

আমার মতে, আইন এমনই হওয়া উচিত যাতে সকলে ঐ আইনকে শ্রদ্ধা করেই হোক কিংবা ভয় করেই হোক সকলেই যেন সেই আইন মেনে, “নিজেকে ভালো রাখতে ও অন্যদেরকেও ভালো থাকতে সহযোগিতা করে।”

আমার কাছে আইনটি ভালো লেগেছে। তবে বলা বাহুল্য সকলের মতে স্বীকার্য বিষয় হলো আইনটি অনেক কঠোর।

আমি যে দিকটায় বেশী ফোকাস করতে চাই,তাহলো বিআরটিএ নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানটির উপর। সড়ক পরিবহন আইনটির সাথে সম্পর্কিত কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো BRTA (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি)। যেই প্রতিষ্ঠান ব্যাক্তির লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ির বিভিন্ন ডকুমেন্টস প্রদান করে থাকে।

যেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ। কঠোর এই আইন প্রয়োগের ফলে মানুষের হিড়িক পড়ে যাবে বিআরটিএ গুলোতে লাইসেন্স,রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস ও মালিকানা পরিবর্তন সহ নানা ধরনের কাজগুলোকে কেন্দ্র করে।

ব্যাপক লোকজনের হিড়িক পড়ার সুযোগে তারা ( বিআরটিএ এর কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালালগণ) আগে যেমন উৎকোচ (ঘুষ) নিতেন এখন তার চেয়েও অতিমাত্রায় উৎকোচ নিবেন বলে নিশ্চিত ধারনা করা যায়।

“নিশ্চিত ধারনা করা যায়” শব্দটি ব্যবহার কেন করলাম এই প্রশ্ন যদি কারো মনে আসে তাহলে বাস্তবে নিজ কানে ঐ প্রশ্নের উত্তর পেতে আপনাকে জিজ্ঞেস করতে হবে ঘনিষ্ট পরিচিত সেই ব্যক্তিকে যিনি গিয়েছিলেন কোন কাজে বিআরটিএতে। তাহলে আপনিও নিশ্চিত আপনার কেন কথাটির উত্তর পেয়ে যাবেন।

এমনিতেই উনারা একেক জন ব্যপক দূর্নীতিবাজ অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম লোক ছাড়া (তবে আমাদের দূর্ভাগ্য এইসকল ব্যতিক্রম লোকদের সংখ্যা নেহায়াতই কম)। ঐসকল দূর্নীতিগ্রস্ত লোকদের দুর্নীতির বেড়াজালে আটকিয়ে সাধারণ মানুষ হয়ে যায় অসহায় ও জিম্মি।

ইতিমধ্যেই দূর্নীতির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে বেশ কিছু শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে যা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

দূর্নীতিগ্রস্ত এই বেড়াজাল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য BRTA নামক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিতেও দরকার সত্যিকারের শুদ্ধি অভিযান। যেই শুদ্ধি অভিযানের ফলে শুদ্ধতা পাবে বিআরটিএ নামক একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যেই শুদ্ধ প্রতিষ্ঠান টাকার বিনিময়ে দিবে না কোনো ভুয়া লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ীর অনুমোদন। সড়কে কমে যাবে মৃত্যুর মিছিল ও মানুষ পাবে সড়ক পরিবহন আইনের সুফলতা, আইনও পাবে তার তৃপ্তি।

দিনশেষে সাধারণ মানুষ বেশী কিছু চায় না, চায় একটু প্রশান্তি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাঁর নাগরিকদের এই প্রশান্তি নিশ্চিত করা।

লেখক:- নাজমুল হাসান সরকার